পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd অক্টোবর ২০১৯

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প।

১.

প্রকল্পের নাম

:

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প

২.

প্রকল্প পচিালকের নাম

:

ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী

৩.

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড

৪.

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল

:

১ লা এপ্রিল ২০১৮ খ্রি: থেকে ৩০ জুন ২০২১ খ্রি:।

৫.

প্রকল্প এলাকা

:

তিন পার্বত্য জেলা (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান)

৬.

প্রকল্প গ্রহণের প্রেক্ষাপট

:

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নৃ-বৈচিত্রমন্ডিত প্রাকৃতিক লীলাভুমি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাস করে যেখানে মৌলিক সেবাসমূহ জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছানো  দুরহ ও কষ্টসাধ্য। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। সঙ্গত কারণেই এখানে মাথাপিছু আয় এবং ক্যালরী গ্রহনের হার জাতীয় হারের চেয়ে কম। স্বাস্থ্য সেবার প্রাপ্যতা, বিদ্যালয়ে ভর্তির হার, নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়:সুবিধা বিবেচনায় তিন পার্বত্য জেলা নিচের সারিতে অবস্থান করছে। এ প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার আর্থ-সামাজিক সূচকসমূহের উন্নয়ন; বিশেষ করে মা ও শিশুর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন ন্যায়ের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার এবং ইউনিসেফের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। ১৯৮৩-৮৪ সালে এ্যাকশন রিচার্স হিসাবে শুরু করে।  প্রকল্পটি ১৯৮৫-১৯৯৫ মেয়াদে প্রথম পর্যায়, ১৯৯৬-২০১১ মেয়াদে দ্বিতীয় পর্যায় এবং ২০১২-২০১৭ মেয়াদে ৩য় পর্যায় বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়িত প্রকল্পের ধাবাবাহিকতায় এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সংগতি রেখে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

৭.

মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা

:

১০৭১২০০ জন (২,০৬,০০০ পরিবার)

৮.

উদ্দেশ্য

:

সাধারণ উদ্দেশ্য: প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনগোষ্টির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য জেলার অনগ্রসর জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সাম্যতা অর্জনের লক্ষ্যে মৌলিক সেবার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ এবং তা যথাযথভাবে বিতরন করে মা ও শিশুদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন বিষয়ে (পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে) টেকসই ব্যবহারিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য:

  • পার্বত্য এলাকায় শিশু ও তাদের পরিবারের নিকট মৌলিক সামাজিক সেবা সমূহের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিকরনের জন্য ৫০০০ পাড়াকেন্দ্র নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা।
  • ১,২০,০০০ শিশুদের প্রাক-শৈশব স্তরে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা।
  • ২,০৬,০০০ পরিবারের শিশু, কিশোরী ও মহিলাদের রক্তস্বল্পতা ও পুষ্টি ঘাটতি জনিত সমস্যা প্রতিরোধ করা।
  • ৪টি আবাসিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টির (বৃত্তিমুলক কোর্সসহ) ১২০০ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রবাহের সাথে সম্পৃক্ত করা।
  • উদ্দীষ্ট জনগোষ্টি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের শিশু ও নারী উন্নয়নে ঊর্ধ্বমূখী পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় সম্পদ সমাবেশ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশীদারিত্ব অর্জনে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেবা বিতরনকারী সংস্থা সমূহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সর্বোত্তম ফলাফল অর্জনে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৯.

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম

:

নির্মাণ ও পূর্ত: পাড়াকেন্দ্র, প্রশিক্ষণ ভবন ও গুদাম সংস্কার, ২৫টি মডেল পাড়াকেন্দ্রসহ ১০০০ নতুন পাড়াকেন্দ্র নির্মাণ।

২.

স্বাস্থ্য:  টিকাদান, গর্ভ ও প্রসবকালীন পরামর্শ, রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবাদান।

৩.

পুষ্টি: আয়রন বড়ি বিতরণ, গ্রোথ মনিটরিং, অপুষ্টি পরিমাপ, কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ, উচ্চ ক্যালরীযুক্ত বিস্কুট বিতরণ।

৪.

পানি ও পয়: ব্যবস্থা: নলকূপ স্থাপন, হ্যান্ড ওয়াশিং ডিভাইস সরবরাহ, হাইজিন প্রমোশন স্বাস্থ্য সম্মত লেট্রিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ।

৫.

শিশু বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা: শিশু বিকাশ, প্রাক-শৈশব উন্নয়ন, প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষা, শিশু লালন পালন বিষয়ক অভিভাবকগনের শিক্ষা।

৬.

শিশু সুরক্ষা: জন্ম নিবন্ধন, কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন।

৭.

উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ: এ্যাডভোকেসি সভা, রেডিও শ্রোতা ক্লাব IPT শো,মাফেট শো, সামাজিক মানচিত্র ও মাইক্রোপ্লান তৈরি।

৮.

প্রশিক্ষন ও সক্ষমতা উন্নয়ন: মৌলিক ও সজ্ঞিবনী প্রশিক্ষন, মনিটরিং সভা, জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলা।

৯.

আবাসিক বিদ্যালয়: ১,২০০ শিক্ষার্থীর খাদ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, শিক্ষা উপকরণ সহায়তা, বৃত্তিমূলক কোর্স পরিচালনা ও শিক্ষককর্মচারীর বেতনভাতা।

১০.

প্রকল্পটির সাথে ভিশন-২০২১, এসডিজি, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং সরকারের ইশতেহারের সম্পর্ক

:

ভিশন ২০২১:

১. শিক্ষা- ৫০০০ পাড়াকেন্দ্রে শিশু বিকাশ ও প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও ৪টি আবাসিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টির শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে মূল ধারার উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা।

২. স্বাস্থ্য- শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এলাকার মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমানো।

৩. পুষ্টি- শিশু, কিশোরী ও নারীদের পুষ্টি সেবা প্রদানের মাধ্যমে অপুষ্টি জনিত সমস্যা দুরীকরনে সহায়তা করা।

৪. নারীর ক্ষমতায়ন: খন্ডখালীন কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন।

এসডিজি-

১. পুষ্টি- শিশু, কিশোরী ও নারীদের পুষ্টি সেবা প্রদানের মাধ্যমে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়তা করা।

২. শিক্ষা- শিশু বিকাশ ও প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং ঝড়ে পড়া রোধ করা।

৩. পানি ও পয়:নিস্কাশন- সকলের জন্য সুপেয় পানি ও পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনমান বাড়ানো।

৪. স্বাস্থ্য সেবা- স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা।

৫. দারিদ্র বিমোচন- পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে ৫০০০ পাড়াকর্মী ও ৫০০ জন মাঠ সংগঠকের খন্ডখালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা করা।

৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা:

১. মানব সম্পদ উন্নয়ন-  প্রকল্পের জনবল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কিশোর-কিশোরী প্রথাগত নেতৃত্ব, ও কম্যুনিটির প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি মূলক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি।

২. ICT উন্নয়ন-  MIS কার্যক্রম উন্নয়নের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন সুচকের পরিবর্তনের তথ্য আদান প্রদান ডিজিটাল পদ্ধতি প্রচলন। সুবিধাবঞ্চিত এলাকা থেকে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা, পাড়াকেন্দ্রে  জন্য মাল্টি মিডিয়া ভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচী চালু করা।

৩. পানি ও পয়:নিস্কাশন-  সকলের জন্য সুপেয় পানি ও পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনমান বাড়ানো।

৪.স্বাস্থ্য সেবা-  স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা।

সরকারের ইশতেহার:

১. কর্মসংস্থান: প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০০ পাড়াকর্মী, ৫০০ জন মাঠ সংগঠক ও 240 জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ।

২. নারীর ক্ষমতায়ন: ৫০০০ পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন করা।

৩. শিশু কল্যাণ: শিশুর সার্বিক বিকাশ ও শিক্ষা নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে শিশু অধিকার সনদের বাস্তবায়ন।

৪. পুষ্টি: শিশু, কিশোরী ও নারীদের পুষ্টি সেবা প্রদানের মাধ্যমে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়তা করা।

৫. টেকসই উন্নয়ন: প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি ও পয়: নিস্কাশন, শিশু সুরক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই ভাবে সামাজিক পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

১১.

প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের

:

ছবি নিম্নে পিডিএফ আকারে সংযুক্ত

১২.

ছোট আকারের ভিডিও ক্লিপ

:

ভিডিও

১৩.

বাস্তবায়ন অগ্রগতি

:

১.

৪০০০ পাড়াকর্মী, ৪০০ জন মাঠ সংগঠক ও ৩০৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ প্রদান সম্পন্ন।

২.

৪৮,০০০ শিশুর শিশু বিকাশ ও প্রাক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান।

৩.

৪০০০ পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের পুষ্টি সেবা প্রদান।

৪.

৪০০০ পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলমান।

৫.

১০১টি শিশু বান্ধব লেট্রিন, ১৩১টি নিররাপদ পানির উৎস স্থাপনের মাধ্যমে পানি ও পয়: নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। পানি ও পয়: ব্যবস্থা উন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী বাস্তবায়ন।

৬.

আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ২৫টি মডেল পাড়াকেন্দ্রে অবকাঠামো উন্নয়নের  মাধ্যমে টেকসই পাড়াকেন্দ্র স্থাপন।

৭.

১৩৪৮ টি পাড়াকেন্দ্র মেরামতের কাজ সম্পন্নকরণ।

৮.

তিন জেলায় ৩টি কিশোর-কিশোরী সম্মেলন আয়োজন।

৯.

১০০০ পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠক এবং ৫০ জন কর্মকর্তার শিশু লালন পালনের উপর প্রশিক্ষন।

১০.

৩০ জন কর্মকর্তার ও ৪০০ জন মাঠ সংগঠকের স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের শিক্ষা উপকরন তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।

১১.

8৫০জন কিশোরী লিডারের কিশোরীদের পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষন।

১২.

৩৮৯ জন প্রতিস্থাপিত পাড়াকর্মীর মৌলিক প্রশিক্ষন প্রদান।

১৩.

৩০ জন কর্মকর্তা ও ৪০০ মাঠ সংগঠকের কেইছ মেনেজমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ।

১৪.

তিন জেলার DCC সদস্যদের ইসিডি বিষয়ক প্রশিক্ষন প্রদান।

১৫.

১২ টি DCC, ১০৪ টি UZCC এবং ৪৮৪ টি UNCC সভা আয়োজন।

১৬.

৭৭৫ জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রথাগত নেতাদের ইসিডি বিষয়ক প্রশিক্ষন প্রদান।

১৭.

৮২৫ জন পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকের পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষন প্রদান।

১৮.

দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার নিমিত্ত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সাথে যৌথভাবে ৭ টি কার্যক্রম বাস্তবায়ন।

Images.pdf Images.pdf

Share with :

Facebook Facebook